
জেলা প্রতিনিধি(ব্রাক্ষনবাড়িয়া)
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)ফেরদৌস আরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও)ফেরদৌস আরা গত (১৪ই জানুয়ারি)বুধবার সকাল ৭ ঘটিকার সময়ের দিকে রাজধানী ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃতু হয়।এদিকে বাঞ্চারামপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও)ফেরদৌস আরার পারিবারিক ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে,ফেরদৌস আরা গত একমাস ধরেই গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন।শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি(উইথড্রয়াল)চেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করেছিলেন।তবে তাঁর সেই অনুরোধ অগ্রাহ্য করে তাঁকে অপমান করা হয়েছিলো বলে এমটাই অভিযোগ উঠেছে।তাছাড়া অসুস্থতার কারণে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের কাছেও চিকিৎসাজনিত ছুটির আবেদন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে,আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে‘নির্বাচনী দায়িত্ব’ দেখিয়ে তাঁকে কোনো ছুটি দেওয়া হয়নি।তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে,গুরুতর অসুস্থ অবস্থাতেও তাঁকে মাঠ পর্যায়ের কাজে সম্পৃক্ত থাকতে বাধ্য করা হয়।পরবর্তী গত ১২ই জানুয়ারী সোমবার ফেরদৌস আরার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে।পরিবার ও সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী,ওই দিন তিনি হঠাৎ বমি করার পর অচেতন হয়ে পড়েন।দ্রুত তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে তাঁর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় এবং তিনি ১৪ই জানুয়ারী বুধবার সকাল ৭ঘটিকার সময় মৃত্যুবরণ করেন।ফেরদৌস আরা বিসিএস(প্রশাসন)৩৬তম ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন।চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি তিনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।তাঁর পৈতৃক বাড়ি চাঁদপুরে হলেও জন্ম ঢাকায়।রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শেখদী এলাকায় তিনি বসবাস করতেন।মৃত্যু কালে তিনি স্বামী ও সাত বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।১৪ই জানুয়ারী সকাল সাড়ে ১০ ঘটিকার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসকের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত শোকবার্তায় বলা হয়,ফেরদৌস আরার মৃত্যুতে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন,ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার সদস্যরা গভীরভাবে শোকাহত।শোক বার্তায় তাঁকে একজন কর্তব্যপরায়ণ,সৎ,দক্ষ ও সদালাপী কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।প্রশ্ন উঠেছে,যাঁকে দক্ষ ও দায়িত্বশীল বলা হচ্ছে,তাঁকে বাঁচানোর দায়িত্ব কি রাষ্ট্র ঠিকভাবে পালন করেছে?এবিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)রঞ্জন চন্দ্র দে ককছে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন,মাথাব্যথা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।পরে হার্ট অ্যাটাক হয়।এদিকে প্রশাসনের একাধিককর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন,অসুস্থ কর্মকর্তাদের মানবিক বিবেচনায় চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে জোরপূর্বক নির্বাচনী কাজে যুক্ত করার প্রবণতা উদ্বেগজনক।তাঁদের মতে,ফেরদৌস আরার মৃত্যু কেবল একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়—এটি প্রশাসনিকঅনমনীয়তা ও অমানবিক সিদ্ধান্তের ফল।তাছাড়া একাধিক সমালোচ কদের দাবি,নির্বাচনকালীন দায়িত্বের নামে চিকিৎসাধীন কর্মকর্তাদের মাঠে নামতে বাধ্য করা প্রশাসনিক নীতি মালার পরিপন্থী।তাঁদের ভাষ্য,এই ধরনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রাষ্ট্র এক জন মেধাবী ও প্রতিশ্রুতিশীল কর্মকর্তাকে হারাল।ব্রাক্ষনবাড়িয়া বাঞ্চারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরাকে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার তাঁর শ্বশুরবাড়িতে দাফন করার কথা হয়েছে।
ফেরদৌস আরার মৃত্যু প্রশাসনিক ব্যবস্থার সামনে একটি স্পষ্ট প্রশ্ন রেখে গিয়েছে।অসুস্থ কর্মকর্তাদের চিকিৎসার অধিকার কি নির্বাচনী চাপের কাছে তুচ্ছ?এই মৃত্যু কি কেবল“কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট,নাকি প্রশাসনিক অবহেলার পরিণতি?এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো অমীমাংসিত বলে মন্তব্য প্রকাশ করেন অনেকেই।এই ঘটনার মধ্যে নির্বাচন কে সামনে রেখে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়ে কঠোর ভাষার আরেকটি বক্তব্য নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।মাদারীপুর জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম এক মতবিনিময় সভায় ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গে তার এক বক্তব্যে বলেন,যারা ভোটকেন্দ্রে যাবেন,তারা মরার প্রস্তুতি নিয়ে যাবেন—এ ধরনের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা তৈরি করেছে।সমালোচকদের মতে,এমন বক্তব্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের’বলির পাঁঠা’বানানোর মানসিকতা তৈরি করতে পারে এবং নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা,দায়িত্বের সীমা ও মানবিক বিবেচনা—সবকিছুকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে জনপ্রশাসনের এই নির্মম অবস্থান।
বাংলাদেশ সময়:০১:২০ মিনিট
২৩শে জানুয়ারী ২০২৬ইং
এওএমবিও

জেলা প্রতিনিধি(ব্রাক্ষনবাড়িয়া)। 







