নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি তৈরি পোশাকশিল্পকে ঘিরে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে।শ্রমিক অসন্তোষ,বিক্ষোভ,সংঘর্ষ,ভাঙচুর,অগ্নিসংযোগ ও কারখানায় উৎপাদন বন্ধের ঘটনায় অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলো।বিশেষ করে সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরে ধারাবাহিক সহিংসতায় পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা,উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—শ্রমিক অসন্তোষের আড়ালে কেউ কি পরিকল্পিতভাবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্প খাতকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার আদায়ের দাবি দীর্ঘদিনের।তবে সেই দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ,কারখানায় হামলা,ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করেন অনেকেই।এদিকে স্বাভাবিক শ্রমিক আন্দোলনকে সহিংসতায় রূপ দেওয়ার পেছনে কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ইন্ধন রয়েছে কি না,তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি উঠছে।শিল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে যে,দেশের পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল করতে দেশি-বিদেশি কোনো মহল অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে।তবে এ ধরনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি বলে জানা যায়।তাছাড়া প্রকৃত উসকানিদাতা, সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তি ও গোষ্ঠী এবং নেপথ্যের অর্থনৈতিক স্বার্থ থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তে চিহ্নিত করা জরুরি বলে মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের।দেশের পোশাকশিল্পে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে সবচেয়ে বড় আঘাত আসবে শ্রমিকদের জীবন-জীবিকায়।পাশাপাশি রপ্তানি আয়,বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ,নতুন ক্রয়াদেশ এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা ও উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে নেতিবাচক বার্তা গেলে তার প্রভাব কাটিয়ে ওঠা কঠিন হতে পারে।এছাড়াও বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে,শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে কিংবা দমন-পীড়নের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। একইভাবে আন্দোলনের নামে সহিংসতা,ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগেরও কোনো গ্রহণ যোগ্যতা নেই।শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা,মালিক পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা,কার্যকর সংলাপ এবং শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার—সবকিছু একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।তাছাড়া শ্রমিক অসন্তোষের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং পরিকল্পিত নাশকতা বা উসকানির কোনো প্রমাণ থাকলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনাসহ একই সঙ্গে শ্রমিকদের ওপর অন্যায়-অবিচার,মজুরি বৈষম্য ও কর্মপরিবেশের সমস্যাগুলোরও কার্যকর সমাধান করতে হবে।কারণ পোশাকশিল্পের সংকট মানে শুধু কয়েকটি কারখানার উৎপাদন বন্ধ হওয়া নয়,এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাখো শ্রমিকের ভবিষ্যৎ,দেশের রপ্তানি অর্থনীতি এবং জাতীয় স্বার্থ।তাই শ্রমিকের অধিকার ও শিল্পের নিরাপত্তা—কোনোটিকেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।দেশের অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিকে অস্থিতিশীলতার আগুন থেকে রক্ষা করতে এখনই প্রয়োজন দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত,স্বচ্ছ তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জোরদাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।
বাংলাদেশ সময়ঃ ০৯:১৮ মিনিট
৪ই নভেম্বর ২০২৬ইং
এসইএম/কালেরবার্তা