
স্টাফ রিপোর্টারঃ
সাভার পৌর ৯নং ওয়ার্ড গেন্ডা এলাকায় আশরাফ উদ্দিন খান ইমু সাহেবের বালুর মাঠে খাদ্য পণ্য,কৃষি পণ্য প্রদর্শনী মাসব্যাপী’অর্গানিক ও শিল্প বাণিজ্য মেলা-২০ ২৫ইং-এর নামে কৌশলে জুয়া খেলার অভিযোগ উঠে।এছাড়া ঢাকা জেলা প্রশাসকের অনুমতিতে মাসব্যাপী’ অর্গানিক ও শিল্প বাণিজ্য মেলা ২০২৫ইং মেলাটির আয়োজনের কথা বলা হলেও সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,অনুমতি পত্রের ১১টি শর্তাবলি মধ্যে কোনোটাই মানা হয়নি।মেলায় অর্গানিক খাদ্য ও কৃষি পণ্যের নামমাত্র একটি স্টল রয়েছে।তবে জানা গেছে,আয়োজক কর্তৃপক্ষ লোক দেখানোর জন্য এসব স্টল দৈনিক ভাড়াপরিশোধের চুক্তিতে বসানো হয়েছে।মেলায় অর্গানিক খাদ্য ও কৃষি পণ্যের পরিবর্তে নিম্নমানের খাদ্য পোশাক নামমাত্র বিনোদনমূলক গেমস ও সন্দেহ জনক স্টলের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়।এছাড়াও আবাসিক এলাকায় মেলা চলায় উচ্চ শব্দে মাইক বাজানোর কারণে আশপাশের হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বার্ষিক পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।এতে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।তারা অবিলম্বে আবাসিক এলাকায় মেলার নামে জুয়া খেলা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানিয়ে ছিলেন।অর্গানিক খাদ্য পণ্য,কৃষি পণ্য প্রদর্শনী ও শিল্প বাণিজ্য মেলার আয়োজক বাংলাদেশ অর্গানিক ফারমার্স এন্ড রিটেলার্স এসোসিয়েশনের(বোফারা) সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম তুষার ও যুগ্মসাধারণ সম্পাদক শরীফ মোঃ বেদুইন হায়দার লিও’র সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করার চেস্টা করেও তা কোনভানে সম্ভব হয়নি।তাছাড়া এ ব্যাপারে সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,বিষয়টি সম্পর্কে অনেকেই অভিযোগ করেছেন।সহকারি কমিশন(ভূমি)সাভার রাজস্ব সার্কেল আবদুল্লাহ আল আমিনকে বিষয়টি তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলেছি।তার রিপোর্টের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।এ ব্যাপারে সহকারি কমিশনার(ভূমি)সাভার রাজস্ব সার্কেল আবদুল্লাহ আল আমিনের কাছে জানাতে চাইলে তিনি বলেন,আমি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখেছি।দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিপোর্ট প্রধান করা হবে।তবে সহকারি কমিশনার(ভূমি)সাভার রাজস্ব সার্কেলের অফিস সূত্রে জানা গেছে,এ্যাসিল্যান্ড আবদুল্লাহ আল আমিন পরপর দুইদিন ছদ্মভেসে গেন্ডা এলাকায় ইমু সাহেবের বালুর মাঠে মাসব্যাপী’অর্গানিক খাদ্য পণ্য,কৃষি পণ্য প্রদর্শনী ও শিল্প বাণিজ্য মেলা-২০২৫ইং পরিদর্শন করেছেন।পরিদর্শনের সময় তিনি মাত্র একটি অর্গানিক খাদ্য পণ্যের স্টল দেখতে পেয়েছেন।এছাড়াও তিনি মেলাস্থলে বিভিন্ন অনিয়মও দেখেছেন।অর্গানিক পণ্যের বদলে নিম্নমানের পণ্য প্রদর্শনসহ বিক্রি চলমান রয়েছে।এদিকে সরেজমিন ঘুরে তথ্যসূত্র থেকে জানা যায়,মেলা য়’জনতার বাজার’নামক একটি কৃষি উপকরণ ও খাদ্য পণ্য বিক্রির একটি ছোট স্টল থাকলেও,মূল আয়োজন জুড়ে রয়েছে দুটি বড় পোশাকের স্টল,দুটি আচারের স্টল,একটি ইলেকট্রনিক্স স্টল এবং নানা প্রকারের ফুচকা -চটপটি,ঝালমুড়ি ও নিম্নমানের খাবারের দোকান।মেলায় কোথাও কৃষি পণ্য প্রদর্শনী বা কোনো শিক্ষামূলক কার্য ক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।বরং পুরো মেলাটি এখন বিভিন্ন রাইড-নাগরদোলা,নৌকা দোলা,মোটরসাইকেল সার্কাস ও বিনোদনমূলক গেমসের মেলায় রূপ নিয়েছে।এছাড়াও জুয়ার নামে খেলা হচ্ছেইন্ডিয়ান বল ধামাকা’ গেমসের নামে জুয়া মেলার মাঝামাঝি স্থানে দেখা গেছে ইন্ডিয়ান বল ধামাকা,নামের একটি গেমস স্টল,যেখানে ৬টি বল নিক্ষেপে ধরা হয় একটি গেম।এই ১ গেমের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা।বল মেলাতে পারলে আকর্ষণীয় পুরস্কার হিসেব চিলো’স্মার্ট টিভি বা মোবাইল ফোন।এতে লোভে পড়ে অনেক দর্শনার্থী,বিশেষ করে তরুণরা, গেমসের নামে এই জুয়া খেলায় জড়িয়ে পড়েছিলেন।তার পাশে আরও রয়েছে বক্সিং গেম ও বিভিন্ন ভাগ্যনির্ভর খেলার নামে জুয়া খেলা।গেম স্টলগুলোর পাশেই’স্মোকি বিস্কিট’নামে একটি স্টলে ছোট শিশু থেকে নারী-পুরুষ সবাইকে ভিড় করতে দেখা গেছে।প্রথম দেখায় সাধারণ বিস্কুটের মতো মনে হলেও,এটি আসলে নেশাজাতীয় মাদকমিশ্রিত খাদ্যদ্রব্য।বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ এই’স্মোকিং বিস্কিট-এ গাঁজা,আইস বা কৃত্রিম মাদক মিশিয়ে তৈরি করা হয়।খাওয়ার পর মাথা ঘোরা,অস্বাভাবিক আনন্দ বা’হাই’অনুভূতি তৈরি হয়,যা মাদকের প্রভাব পরে বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল।এদিকে চিকিৎসকদের মতে,এ ধরনের মাদকমিশ্রিত খাদ্য মানবমস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করে,মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে এবং আসক্তির ঝুঁকি তৈরি করে।বাংলাদেশে এমন খাদ্য উৎপাদন,বিক্রি বা সেবন দণ্ডনীয় অপরাধ।অথচ মেলায় প্রকাশ্যে খোলামেলাভাবে চড়া দামে এই নিষিদ্ধ
তাছাড়া মেলায় আরোও অভিযোগ উঠে, মেলার প্রবেশে অবৈধভাবে টিকিট বিক্রি ও শর্ত ভঙ্গের,তবে মেলায় প্রবেশের জন্য প্রতিজনকে ২০ টাকার টিকিট কিনতে হচ্ছে।অথচ জেলা প্রশাসনের অনুমতিপত্রে প্রবেশমূল্য গ্রহণের কথা বলা হয়নি।এছাড়াও মেলার ভেতরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই।বরং শুধুমাত্র রঙিণবাতির ঝলকানিতে সীমাবদ্ধ। মেলায় উচ্চ শব্দে গান বাজানো হচ্ছে,যা অনুমতির শর্তের পরিপন্থী।স্বেচ্ছাসেবক বা নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতিও দেখা যায়নি।স্থানীয়রা জানান,জেলা প্রশাসকের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল,গেন্ডা খেলার মাঠে,মেলা আয়োজনের জন্য।কিন্তু বাস্তবে মেলা বসানো হয়েছে”ইমু সাহেবের বালুরমাঠে যা প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার সামিল। স্থানীয়দের মতে,গেন্ডা খেলার মাঠ”নামে কোনো মাঠই নেই,এটি এক ধরণের প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়াঅনুমতির বলে জানান এলাকাবাসী।তবে জেলা প্রশাসনের অনুমতি ও শর্তাবলি ২১শে অক্টোবর ২০২৫ইং তারিখে ঢাকা জেলা প্রশাসকের বিচার শাখা থেকে স্মারক নম্বর০৫.৪১.২৬০০ .০০০.০১১.১৮.০০০৫.২৫.১-৫ এর মাধ্যমে’অর্গানিক খাদ্য পণ্য, কৃষি পণ্য প্রদর্শনী ও শিল্প বাণিজ্য মেলা- ২০২৫ইং উল্লেখযোগ্য,এর মাধ্যমে “অর্গানিক খাদ্য পণ্য, কৃষি পণ্য প্রদর্শনী ও শিল্প বাণিজ্য মেলা-২০২৫ইং আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়।আবেদন করেছিলেন বাংলাদেশ অর্গানিক ফারমার্স অ্যান্ড রিটেইলার্স অ্যাসোসিয়েশন(বোফরা)এর সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আল তুষার। পুলিশ সুপার(ডিএসবি),ঢাকা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,সাভারের প্রতিবেদন অনুযায়ী ১ই নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৫ইং পর্যন্ত মেলার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।এ মেলার অনুমতিপত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মেলা পরিচালনায় গেন্ডা খেলার মাঠ কমিটিকে সম্পৃক্ত করতে হবে।স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। কোনো অবস্থা তেই অশ্লীল নৃত্য,গান,জুয়া বা অবৈধ কার্যকলাপ করা যাবে না,এছাড়া উচ্চ শব্দে যন্ত্রপাতি ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকবে।কিন্তু মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে,এসব শর্তের অধিকাংশই লঙ্ঘিত হয়েছে।তাছাড়া স্থানীয় সচেতন মহল,অভিভাবক এবং শিক্ষাবিদরা বলছেন,অর্গানিক খাদ্য ও কৃষি পণ্য প্রদর্শনীর নামে বাণিজ্যিক জুয়া,মাদক ও নিম্নমানের পণ্যের মেলা চলছে।এটি শুধু প্রতারণা নয়, জনস্বার্থ ও তরুণ সমাজের জন্য হুমকির কারন,এছাড়াও বছর শেষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে বার্ষিক পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।মেলার কারণে আশপাশের হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।তারা অবিলম্বে আবাসিক এলাকায় মেলার নামে জুয়া খেলা বন্ধে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।এদিকে এলাকাবাসী দাবী ও সরজমিনের তথ্য অনুযায়ী মেলার নিয়ম ভঙ্গের দায়ে ১১ই নভেম্বর ২০২৫ইং দুপুর আনুমানিক ৩ ঘটিকার দিকে সাভার উপজেলার সহকারী কমিশন(ভুমি)সাভার রাজস্ব সার্কেল আব্দুল্লা আল আমিন এ অভিযোগের উপর ভিত্তি করে’অর্গানিক খাদ্য পণ্য ও কৃষি পণ্য প্রদর্শনী মেলা ২০২৫ইং সাময়িক ভানে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন,এছাড়াও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ মেলা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়ঃ ০৭:২০ মিনিট
১১ই নভেম্বর ২০২৫ইং
এমএসইএস

স্টাফ রিপোর্টার। 









