
সাঈফ মাহমুদ(সাভার)।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ে যখন চাপে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো,তখন সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে সামনে এসেছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রকৃত উপকারভোগী শনাক্তকরণের প্রশ্ন।ঢাকার সাভারে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব,স্বজন প্রীতি ও বৈষম্য এড়িয়ে নিরপেক্ষভাবে তালিকা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।এদিকে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও)সাইফুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন,ফ্যামিলি কার্ডের মূল উদ্দেশ্য কেবল কার্ড বিতরণ নয়;বরং যেসব পরিবার আর্থিক সংকটে রয়েছে, তাদের কাছে যথাযথভাবে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া ।এ লক্ষ্য অর্জনে উপকারভোগী নির্বাচনের শুরু থেকে চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নির্ভুল তথ্য যাচাই ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।কারণ,তালিকা তৈরিতে ত্রুটি থাকলে প্রকৃত দরিদ্র পরিবার সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। অন্যান্য ,অযোগ্য কেউ তালিকাভুক্ত হলে সরকারি অর্থ ও সুবিধার সঠিক বণ্টন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কর্মসূচির কার্যকারিতা নির্ভর করছে মাঠপর্যায়ের যাচাই-বাছাই,নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত এবং জবাবদিহিমূলক বাস্তবায়নের ওপর।এছাড়াও সাভার উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা কে এম শহিদুজ্জামান বলেন,ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে জরিপ, তথ্য সংগ্রহ ও সম্ভাব্য উপকারভোগীদের শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাছাড়া এ কার্যক্রমের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।তিনি আরো বলেন,জরিপের মাধ্যমে পরিবারের আর্থিক অবস্থা,আয় ও বাস্তব প্রয়োজন যাচাই করে উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুতের পরিকল্পনা রয়েছে।এ ক্ষেত্রে শুধু আবেদন বা ব্যক্তিগত সুপারিশের ওপর নির্ভর না করে মাঠপর্যায়ের বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।তবে জরিপের তথ্য কতটা নির্ভুলভাবে যাচাই করা হচ্ছে,চূড়ান্ত তালিকা কীভাবে প্রস্তুত হবে এবং তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ উঠলে কীভাবে প্রতিকার দেওয়া হবে—এসব বিষয় কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।এদিকে ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী নির্বাচনে দিনমজুর,নিম্নআয়ের শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী,স্বল্প বেতনের চাকরিজীবী, বিধবা,প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত পরিবারগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।বিশেষ করে যেসব পরিবারের আয় দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে,তাদের আর্থিক সক্ষমতা ও পারিবারিক পরিস্থিতি যাচাই করে তালিকাভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।একই সঙ্গে কোনো যোগ্য পরিবার যেন বাদ না পড়ে এবং অযোগ্য কেউ যেন অন্যায়ভাবে সুবিধা না পান,তা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।তবে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে রাজনৈতিক পরিচয়,ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা প্রভাবের ভিত্তিতে উপকারভোগী নির্বাচনের সুযোগ থাকা উচিত নয়। সংশ্লিষ্টদের এ ধরনের প্রভাব এড়িয়ে নিরপেক্ষভাবে তালিকা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে,সরকারি সহায়তা সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছাতে হলে উপকারভোগী নির্বাচনের মানদণ্ড স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।তালিকা প্রণয়ন ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া যথাসম্ভব স্বচ্ছ রাখা,দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকলে কর্মসূচির প্রতি মানুষের আস্থা বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।তাছাড়া ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন,তথ্য যাচাই ও সুবিধা বিতরণের প্রতিটি পর্যায়ে সাধারণ মানুষ যাতে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি,হয়রানি কিংবা বৈষম্যের শিকার না হন,সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।এ জন্য কর্মসূচির যোগ্যতা,আবেদনপ্রক্রিয়া,প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সুবিধার ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রচার করা জরুরি। পাশাপাশি অনিয়ম,স্বজনপ্রীতি কিংবা যোগ্য ব্যক্তিকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ জানানোর সুযোগ এবং সেসব অভিযোগ যাচাই করে প্রতিকারের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।তবেসুষ্ঠু বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুফল নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন,সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ,জনপ্রতিনিধি,গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি, তথ্যের নির্ভুলতা যাচাই এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে যথাযথ তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে জবাবদিহি বাড়ানো সম্ভব।এদিকে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা,স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উপকারভোগী নির্বাচন,নির্ভুল জরিপ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা গেলে সাভারের প্রকৃত দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো এ কর্মসূচির সুফল পাবে।শেষ পর্যন্ত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সাফল্য শুধু কতটি কার্ড বিতরণ হলো,তার ওপর নির্ভর করবে না;বরং যাদের সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাদের হাতে সেই সুবিধা পৌঁছাল কি না—সেটিই হবে এর কার্যকারিতা মূল্যায়নের অন্যতম প্রধান বিবেচ্য।
বাংলাদেশ সময়ঃ ০৩:১০ মিনিট
১২ই অক্টোবর ২০২৬ইং
এফসিওএম/কালের বার্তা

সাঈফ মাহমুদ(সাভার)। 








