
সাভার প্রতিনিধি:
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ মঙ্গলবার(৩০ জুন ২০২৬ইং)সকাল ৯ঘটিকার দিকে সাভার উপজেলার সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন।ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ভূমি মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন জমিতে এ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।পরিদর্শনকালে সিনিয়র সচিব জানান,সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পটি ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির(একনেক)সভায় অনুমোদন পেয়েছে।প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপজেলা ভূমি অফিস ও উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস একই ভবনে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।ফলে সাধারণ মানুষ এক ছাতার নিচে ভূমি জরিপ,নামজারি(মিউটেশন),ভূমি উন্নয়ন কর,রেকর্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা সহজে ও দ্রুত গ্রহণ করতে পারবেন। এতে সেবাগ্রহীতাদের সময়,অর্থ ও ভোগান্তি কমবে এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও নিশ্চিত হবে।তিনি আরো বলেন,বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ আধুনিক,প্রযুক্তি নির্ভর ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলা।সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেন।প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন শেষে সিনিয়র সচিব সাভার উপজেলা ভূমি অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় পরিদর্শন করেন।এ সময় তিনি সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত দেখতে পান এবং অফিসের সার্বিক পরিবেশ ও কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন।উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শনের সময় তিনি ভূমি উন্নয়ন কর আদায়,নামজারি(মিউটেশন),ই-নামজারি, অনলাইন সেবা এবং অন্যান্য ভূমিসেবার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।এ সময় সহকারী কমিশনার(ভূমি)তাকে জানান,ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং সাধারণ দাবির শতভাগ আদায় ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।সিনিয়র সচিব ভূমিসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে জনগণকে কোনো ধরনের হয়রানি না করে দ্রুত,স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।তিনি বলেন,জনগণের দোরগোড়ায় সহজ ও নির্ভরযোগ্য ভূমিসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।পরবর্তীতে তিনি ভূমি মন্ত্রণালয়ের চলমান হোল্ডিং ও খতিয়ান ডেটা এন্ট্রি এবং খতিয়ান ও হোল্ডিংয়ের ভুল সংশোধন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি জানান,ভূমিসেবা সিস্টেমকে আরও আধুনিক ও নির্ভুল করতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি(UNDP), বাংলাদেশের সহযোগিতায় সারাদেশে শতভাগ হোল্ডিং ও খতিয়ান ডেটা এন্ট্রি এবং ভুল সংশোধনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।তিনি জানান,ইতোমধ্যে দেশের আটটি জেলায় এ কার্যক্রমের পাইলটিং সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা,গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় হোল্ডিং ও খতিয়ানের ডেটা এন্ট্রির কাজ চলমান রয়েছে।পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এতে ভূমি-সংক্রান্ত তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক ভূমিসেবা আরও কার্যকর, দ্রুত ও সহজলভ্য হবে।ডেটা এন্ট্রি ও ভুল সংশোধনের চলমান কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশংসা করেন সিনিয়র সচিব।তিনি বলেন,শতভাগ ডেটা এন্ট্রি সম্পন্ন হলে ভূমিসেবা ব্যবস্থা আরও সহজ,স্বয়ংক্রিয়,স্বচ্ছ ও জনবান্ধব হবে।এতে ভূমি-সংক্রান্ত সেবা গ্রহণে মানুষের দুর্ভোগ কমবে এবং ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে নতুন মাত্রা যোগ হবে।পরিদর্শনকালে ভূমি মন্ত্রণালয়,জেলা প্রশাসন,সাভার উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় ভূমি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সময়ঃ ০৫:২০ মিনিট
১ই জুলাই ২০২৬ইং
এসইএমএইচসি

সাভার প্রতিনিধি। 








