
সাভার প্রতিনিধি:
সাভার পৌর জিয়া পরিষদের ১৬ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় বিএনপিপন্থী নেতা কর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ।কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মেহেদী রানা শহীদকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে আবুল বাসার চৌধুরী তুহিনকে। আর এ কমিটি অনুমোদনের পরই সামনে এসেছে একের পর এক প্রশ্ন—কারা গঠন করলেন কমিটি ,কী প্রক্রিয়ায় হলো অনুমোদন,আর বিতর্কিত অভিযোগ থাকা ব্যক্তিই বা কীভাবে পেলেন সভাপতির পদ?,শনিবার (৫ই সেপ্টেম্বর)জিয়া পরিষদ ঢাকা জেলা শাখার সদস্য সচিব আবদুর রহমান স্বাক্ষরিত অনুমোদন পত্রে সাভার পৌর শাখার এ আংশিক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। নথিতে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর স্বাক্ষরও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।তবে কমিটি ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের একাংশের প্রশ্ন—দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকা পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে কেন এমন একজনকে নেতৃত্বে আনা হলো,যার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা?এদিকে (‘পদ বাণিজ্যের’বিস্ফোরক অভিযোগ)ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগ,মেহেদী রানা শহীদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।তাদের দাবি, এমন বিতর্কিত অভিযোগ থাকা ব্যক্তিকে জিয়া পরিষদের সভাপতি করা সংগঠনের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে ।আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে তারা বলছেন,মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে মেহেদী রানা শহীদকে সভাপতির পদ দেওয়া হয়েছে।তবে অনুমোদনদাতা আবদুর রহমানকে ঘিরেও প্রশ্ন,কমিটির অনুমোদনদাতা জিয়া পরিষদ ঢাকা জেলা শাখার সদস্য সচিব আবদুর রহমানের রাজনৈতিক অতীত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।তাদের অভিযোগ,আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে রাজনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন ৭নং ওয়ার্ড সাবেক কাউন্সিল আবদুর রহমান।এমনকি ওই সময়কার রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।নেতাকর্মীরা আরও দাবি করেছেন,তার ভাগিনা রুবের মন্ডল সাভার পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বেয়াই সেলিম মন্ডল তৎকালীন সাভার থানা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।এসব সম্পর্কের প্রভাবেই আওয়ামী লীগ আমলে আবদুর রহমান সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন বলে অভিযোগ তাদের।তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং আবদুর রহমানের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।অনুমোদনপত্রে,কমিটি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে অনুমোদন পত্রের একটি অংশ নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।নথির মাঝামাঝি অংশে একজন ব্যক্তির স্বাক্ষর ও তারিখ রয়েছে,কিন্তু সেখানে তার নাম কিংবা পদবি উল্লেখ নেই।স্বাক্ষরটি কার?কোন ক্ষমতাবলে তিনি স্বাক্ষর করেছেন বলে দাবী স্থানীয় নেতাকর্মীদের।অনুমোদন পত্রে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা.দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর স্বাক্ষর থাকার বিষয়টিও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।তার স্বাক্ষরটি কমিটি অনুমোদনের অংশ,নাকি সুপারিশ বা অন্য কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ—তা স্পষ্ট নয়।এদিকে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবী,ত্যাগীদের বাদ দিয়ে বিতর্কিতদের কেন?দীর্ঘদিন দলের দুঃসময়ে যারা মামলা-হামলা, রাজনৈতিক চাপ ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মাঠে ছিলেন নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাদের মূল্যায়ন করা উচিত ছিল।তাদের প্রশ্ন,“সাভারে কি পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীর এতটাই অভাব যে বিতর্কিত অভিযোগ থাকা ব্যক্তিকেই জিয়া পরিষদের সভাপতি করতে হবে,কমিটি ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হওয়া আলোচনা এখন কোথায় গিয়ে ঠেকে,সেটিই দেখার বিষয় নেতাকর্মীদের মাঝে।তবে নেতাকর্মীদের দাবি,অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ যাচাই এবং কমিটি অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়া প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা করা হলে বিতর্কের অবসান ঘটতে পারে বলে জানান তারা।
বাংলাদেশ সময়:
৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং
আরইএমএস

সাভার প্রতিনিধি। 








