, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সাভারে মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ,স্ত্রীর ভূমিকাও তদন্তের দাবি। হাসপাতালে সুস্থ শিশু,অপারেশন কক্ষে মৃত্যু—সাভারে ৯ বছরের আবরাহামকে ঘিরে প্রশ্ন। প্রশাসনে রদবদলের ঝড়,১০ কর্মকর্তার নতুন দায়িত্ব। সাভারে ডিবির অভিযানে ৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার,আটক যুবক। সাভারে জেন্ডার বৈষম্য ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ সভা,গুরুত্ব পেল তথ্য যাচাই। সাভারের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে উপজেলা প্রশাসন, নিরাপত্তা নিশ্চিতে তদারকি পাথালিয়ায় ফ্যামিলি কার্ডের জরিপে কঠোর তদারকি,স্বচ্ছতা নিশ্চিতে মাঠে ইউএনও ও সমাজসেবা কর্মকর্তা। বিরুলিয়ায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন,নীতিমালা যাচাইয়ের দাবিতে ডিসিকে আবেদন। সাভারে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ স্বচ্ছতা,তালিকায় প্রকৃত দরিদ্রদের অগ্রাধিকার। জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা,রিয়াদে বাংলাদেশ-সৌদি বৈঠক

হাসপাতালে সুস্থ শিশু,অপারেশন কক্ষে মৃত্যু—সাভারে ৯ বছরের আবরাহামকে ঘিরে প্রশ্ন।

সাঈফ মাহমুদ(সাভার)
নাকের পলিপাস অপারেশন করাতে হাসপাতালে এসে আর বাড়ি ফেরা হলো না ৯ বছরের শিশু আবরাহামের। সুস্থ-সবল অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুটির মৃত্যু হয়েছে অস্ত্রোপচার কক্ষে।স্বজনদের অভিযোগ, অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগে ত্রুটি ও চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।মৃত্যুর পর অভিযুক্ত চিকিৎসকদের হাসপাতালে পাওয়া যায়নি বলেও দাবি পরিবারের।বুধবার(২১শে অক্টোবর) সকালে ঢাকার সাভারের রাজাবাড়ী এলাকার আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল লিমিটেডে এ ঘটনা ঘটে।শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালের অভ্যর্থনা কক্ষসহ কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।নিহত আবরাহাম মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার রাজনগর নোয়াদ্দা এলাকার বাসিন্দা।সে মায়ের সঙ্গে থাকত।তার বাবা আল আমিন দুবাইপ্রবাসী।অপারেশন কক্ষে নেওয়ার পর কী ঘটেছিল?এবিষয়ে নিহত শিশুর মামা মোঃ রুবেল জানান, বুধবার সকালে নাকের পলিপাস অপারেশনের জন্য আবরাহামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।শিশুটি নিজে হেঁটে হাসপাতালে আসে এবং স্বজনদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলে।পরে তাকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়।দীর্ঘ সময় পার হলেও শিশুটির অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের কাছ থেকে স্পষ্ট তথ্য না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্বজনেরা।একপর্যায়ে শিশুটিকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এদিকে আবরাহামের চাচা আমিনুর রহমানের অভিযোগ,আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ডা.শাহীন শিশুটিকে অজ্ঞান করেন।এরপর নাক ও গলার অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে ডা. সুমন হোসাইনের কাছে নেওয়া হয়।দীর্ঘ সময় পরও শিশুটির কোনো সাড়া না পেয়ে স্বজনেরা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন।পরে তারা জানতে পারেন,অস্ত্রোপচার কক্ষেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।তবে পরিবারের দাবি,অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগে ত্রুটি কিংবা চিকিৎসায় অবহেলার কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।তাছাড়া মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।এ বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।শিশুর মৃত্যুর খবর জানাজানি হলে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালের অভ্যর্থনাকক্ষসহ কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালান।পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।সাভার মডেল থানার পরিদর্শক(তদন্ত)মোশাররফ হোসেন কালের বার্তাকে বলেন,ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে।বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী হাসপাতালের মালিক ডা.আব্বাস উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।খুদেবার্তা পাঠিয়েও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।তবে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিচয়ে মজিবুর রহমান দাবি করেন,ডা. শাহীন অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর নাক দিয়ে ক্যানুলা প্রবেশের সময় শিশুটি শারীরিকভাবে তা সহ্য করতে পারেনি। অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের ইনচার্জ শিশুটিকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।সরজমিন তথ্যসূত্র ও স্থানীয়দের দাবী,স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারি ও তদন্তের জোরদার করা উচিৎ।এদিকে ঘটনার বিষয়টি সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ ফজলে বারী বলেন,শিশুমৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।মৃত শিশুর স্বজনেরা লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।একটি শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসার মান, অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের প্রক্রিয়া এবং অস্ত্রোপচারকালীন জরুরি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।তবে চিকিৎসায় অবহেলা বা ভুলের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন। আবরাহামের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং দায়ী কেউ থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।

বাংলাদেশ সময়ঃ ০৮:১৭ মিনিট
২১শে অক্টোবর ২০২৬ইং
ইএসএস/কালেরবার্তা

জনপ্রিয়

সাভারে মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ,স্ত্রীর ভূমিকাও তদন্তের দাবি।

হাসপাতালে সুস্থ শিশু,অপারেশন কক্ষে মৃত্যু—সাভারে ৯ বছরের আবরাহামকে ঘিরে প্রশ্ন।

প্রকাশের সময় : ৯ ঘন্টা আগে

সাঈফ মাহমুদ(সাভার)
নাকের পলিপাস অপারেশন করাতে হাসপাতালে এসে আর বাড়ি ফেরা হলো না ৯ বছরের শিশু আবরাহামের। সুস্থ-সবল অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুটির মৃত্যু হয়েছে অস্ত্রোপচার কক্ষে।স্বজনদের অভিযোগ, অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগে ত্রুটি ও চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।মৃত্যুর পর অভিযুক্ত চিকিৎসকদের হাসপাতালে পাওয়া যায়নি বলেও দাবি পরিবারের।বুধবার(২১শে অক্টোবর) সকালে ঢাকার সাভারের রাজাবাড়ী এলাকার আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল লিমিটেডে এ ঘটনা ঘটে।শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালের অভ্যর্থনা কক্ষসহ কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।নিহত আবরাহাম মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার রাজনগর নোয়াদ্দা এলাকার বাসিন্দা।সে মায়ের সঙ্গে থাকত।তার বাবা আল আমিন দুবাইপ্রবাসী।অপারেশন কক্ষে নেওয়ার পর কী ঘটেছিল?এবিষয়ে নিহত শিশুর মামা মোঃ রুবেল জানান, বুধবার সকালে নাকের পলিপাস অপারেশনের জন্য আবরাহামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।শিশুটি নিজে হেঁটে হাসপাতালে আসে এবং স্বজনদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলে।পরে তাকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়।দীর্ঘ সময় পার হলেও শিশুটির অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের কাছ থেকে স্পষ্ট তথ্য না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্বজনেরা।একপর্যায়ে শিশুটিকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এদিকে আবরাহামের চাচা আমিনুর রহমানের অভিযোগ,আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ডা.শাহীন শিশুটিকে অজ্ঞান করেন।এরপর নাক ও গলার অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে ডা. সুমন হোসাইনের কাছে নেওয়া হয়।দীর্ঘ সময় পরও শিশুটির কোনো সাড়া না পেয়ে স্বজনেরা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন।পরে তারা জানতে পারেন,অস্ত্রোপচার কক্ষেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।তবে পরিবারের দাবি,অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগে ত্রুটি কিংবা চিকিৎসায় অবহেলার কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।তাছাড়া মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।এ বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।শিশুর মৃত্যুর খবর জানাজানি হলে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালের অভ্যর্থনাকক্ষসহ কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালান।পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।সাভার মডেল থানার পরিদর্শক(তদন্ত)মোশাররফ হোসেন কালের বার্তাকে বলেন,ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে।বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী হাসপাতালের মালিক ডা.আব্বাস উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।খুদেবার্তা পাঠিয়েও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।তবে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিচয়ে মজিবুর রহমান দাবি করেন,ডা. শাহীন অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর নাক দিয়ে ক্যানুলা প্রবেশের সময় শিশুটি শারীরিকভাবে তা সহ্য করতে পারেনি। অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের ইনচার্জ শিশুটিকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।সরজমিন তথ্যসূত্র ও স্থানীয়দের দাবী,স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারি ও তদন্তের জোরদার করা উচিৎ।এদিকে ঘটনার বিষয়টি সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ ফজলে বারী বলেন,শিশুমৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।মৃত শিশুর স্বজনেরা লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।একটি শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসার মান, অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের প্রক্রিয়া এবং অস্ত্রোপচারকালীন জরুরি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।তবে চিকিৎসায় অবহেলা বা ভুলের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন। আবরাহামের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং দায়ী কেউ থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।

বাংলাদেশ সময়ঃ ০৮:১৭ মিনিট
২১শে অক্টোবর ২০২৬ইং
ইএসএস/কালেরবার্তা