, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের ১৪ নির্দেশনা সরকারের। সাভার পৌরসভায় কর আদায়ে‘আপিলের’ফাঁদ-শিল্প-হাসপাতাল-শপিংমলে কোটি কোটি টাকা ছাড়। ফ্যামিলি কার্ডের মাঠপর্যায়ের দায়িত্বে ছাত্রলীগ নেতা,নিয়োগে প্রশ্ন। সকালে উচ্ছেদ,বিকেলেই দখল:মহাসড়কের ফুটপাত উচ্ছেদে নাটকীয় অভিযান। সাভারে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন,পাঁচজনের কারাদণ্ড। মাদকসেবীর বিরুদ্ধে নয়,মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক লড়াই করতে হবে:কে এম শহিদুজ্জামান। দাম্পত্য কলহের পর গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার। দীর্ঘ ৮ বছর পর গৃহবন্দিত্বের অবসান,মিলল চলাচলের রাস্তা।উদ্যোগে(ইউএনও) অপরাধ দমনে চাই জনগণের আস্থা—সাভারে র‍্যাবের মতবিনিময়। কেরানীগঞ্জে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগে আমিনবাজারে জনতার গর্জন।

সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের ১৪ নির্দেশনা সরকারের।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ,জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করতে দেশের সব জেলা প্রশাসককে(ডিসি) ১৪ দফা নির্দেশনা দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।মাঠপর্যায়ের ভূমি অফিসগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং ও তদারকির মাধ্যমে নাগরিক হয়রানি কমানো এবং ভূমি সেবার মান উন্নত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন,নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরম্যান্স(ডিকেএমপি)অনুবিভাগের উপসচিব সাদেকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেশের জেলা প্রশাসকদের এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।চিঠিতে বলা হয়েছে,ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে উপজেলা ভূমি অফিস,রাজস্ব সার্কেল এবং ইউনিয়ন ও পৌর ভূমি অফিসের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করতে হবে।নির্দেশনায় ভূমি অফিসে কর্মকর্তা- কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি,দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নামজারি,ভূমি উন্নয়ন কর,খতিয়ান,নকশা ও রেকর্ড সংশোধনসহ সব ধরনের ভূমিসেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেওয়া হচ্ছে কি না,তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে।এ ছাড়া নাগরিকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করা,অনলাইন ভূমিসেবা ,ই-নামজারি ও ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে।একই সঙ্গে দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত,অভিযোগের দ্রুত তদন্ত এবং সেবার ফি,প্রক্রিয়া ও সময়সীমা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ভূমিসেবায় অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি সহায়তা সিস্টেম কার্যকর ভাবে ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।ভূমি অফিসের পরিচ্ছন্নতা,নথিপত্রের যথাযথ সংরক্ষণ,নাগরিক সনদ,তথ্য বোর্ড ও সেবার মানদণ্ড হালনাগাদ রাখার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জামের সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।একই সঙ্গে ভূমি আইন,বিধি ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং এর কার্যক্রম তদারকির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।পাশাপাশি আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে অনিয়ম শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
১৪ দফা নির্দেশনার মূল বিষয়
১.ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
২.দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখা।
৩.নির্ধারিত সময়ে নামজারি,খতিয়ান,নকশা ও রেকর্ড সংশোধনসহ ভূমিসেবা দেওয়া।
৪.ভূমি উন্নয়ন কর আদায় ও সংশ্লিষ্ট সেবার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ।
৫.নাগরিকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করা।
৬.অনলাইন ভূমিসেবা ও ই-নামজারির কার্যকারিতা পর্যালোচনা।
৭.ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থাপনা কার্যকর রাখা।
৮.দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা।
৯.অভিযোগ দ্রুত তদন্ত ও নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তি করা।
১০.সেবার ফি,প্রক্রিয়া ও সময়সীমা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করা।
১১.ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্রের কার্যক্রম জোরদার ও তদারকি করা।
১২.অফিসের পরিচ্ছন্নতা,নথি সংরক্ষণ ও তথ্য বোর্ড হালনাগাদ রাখা।
১৩.তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জামের যথাযথ ব্যবহার এবং ভূমি আইন-বিধি অনুসরণ নিশ্চিত করা।
১৪.আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে অনিয়ম শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
নির্দেশনা অনুযায়ী,জেলা প্রশাসকদের মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ,অগ্রগতি এবং গৃহীত ব্যবস্থা উল্লেখ করে প্রতি মাসের প্রতিবেদন পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।ভূমি মন্ত্রণালয়ের মতে, নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ভূমিসেবার মান আরও উন্নত করা এবং একটি স্বচ্ছ,জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব ভূমি প্রশাসন গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশ সময়ঃ ০২:৫৮ মিনিট
১৬ই আগস্ট ২০২৬ইং
ভিওইএসই

জনপ্রিয়

সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের ১৪ নির্দেশনা সরকারের।

সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের ১৪ নির্দেশনা সরকারের।

প্রকাশের সময় : ২ ঘন্টা আগে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ,জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করতে দেশের সব জেলা প্রশাসককে(ডিসি) ১৪ দফা নির্দেশনা দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।মাঠপর্যায়ের ভূমি অফিসগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং ও তদারকির মাধ্যমে নাগরিক হয়রানি কমানো এবং ভূমি সেবার মান উন্নত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন,নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরম্যান্স(ডিকেএমপি)অনুবিভাগের উপসচিব সাদেকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেশের জেলা প্রশাসকদের এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।চিঠিতে বলা হয়েছে,ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে উপজেলা ভূমি অফিস,রাজস্ব সার্কেল এবং ইউনিয়ন ও পৌর ভূমি অফিসের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করতে হবে।নির্দেশনায় ভূমি অফিসে কর্মকর্তা- কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি,দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নামজারি,ভূমি উন্নয়ন কর,খতিয়ান,নকশা ও রেকর্ড সংশোধনসহ সব ধরনের ভূমিসেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেওয়া হচ্ছে কি না,তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে।এ ছাড়া নাগরিকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করা,অনলাইন ভূমিসেবা ,ই-নামজারি ও ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে।একই সঙ্গে দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত,অভিযোগের দ্রুত তদন্ত এবং সেবার ফি,প্রক্রিয়া ও সময়সীমা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ভূমিসেবায় অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি সহায়তা সিস্টেম কার্যকর ভাবে ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।ভূমি অফিসের পরিচ্ছন্নতা,নথিপত্রের যথাযথ সংরক্ষণ,নাগরিক সনদ,তথ্য বোর্ড ও সেবার মানদণ্ড হালনাগাদ রাখার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জামের সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।একই সঙ্গে ভূমি আইন,বিধি ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং এর কার্যক্রম তদারকির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।পাশাপাশি আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে অনিয়ম শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
১৪ দফা নির্দেশনার মূল বিষয়
১.ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
২.দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখা।
৩.নির্ধারিত সময়ে নামজারি,খতিয়ান,নকশা ও রেকর্ড সংশোধনসহ ভূমিসেবা দেওয়া।
৪.ভূমি উন্নয়ন কর আদায় ও সংশ্লিষ্ট সেবার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ।
৫.নাগরিকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করা।
৬.অনলাইন ভূমিসেবা ও ই-নামজারির কার্যকারিতা পর্যালোচনা।
৭.ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থাপনা কার্যকর রাখা।
৮.দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা।
৯.অভিযোগ দ্রুত তদন্ত ও নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তি করা।
১০.সেবার ফি,প্রক্রিয়া ও সময়সীমা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করা।
১১.ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্রের কার্যক্রম জোরদার ও তদারকি করা।
১২.অফিসের পরিচ্ছন্নতা,নথি সংরক্ষণ ও তথ্য বোর্ড হালনাগাদ রাখা।
১৩.তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জামের যথাযথ ব্যবহার এবং ভূমি আইন-বিধি অনুসরণ নিশ্চিত করা।
১৪.আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে অনিয়ম শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
নির্দেশনা অনুযায়ী,জেলা প্রশাসকদের মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ,অগ্রগতি এবং গৃহীত ব্যবস্থা উল্লেখ করে প্রতি মাসের প্রতিবেদন পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।ভূমি মন্ত্রণালয়ের মতে, নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ভূমিসেবার মান আরও উন্নত করা এবং একটি স্বচ্ছ,জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব ভূমি প্রশাসন গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশ সময়ঃ ০২:৫৮ মিনিট
১৬ই আগস্ট ২০২৬ইং
ভিওইএসই