
সাভার প্রতিনিধি:
সাভার পৌরসভায় ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্স ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল করার উদ্যোগে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন হাজারো সেবাগ্রহীতা।নতুন সফটওয়্যার চালুর পর পুরোনো গ্রাহকদের তথ্য না পাওয়া,লাইসেন্স নম্বর পরিবর্তন,ভাষাগত ত্রুটি,দীর্ঘসূত্রতা ও সেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগে প্রতিদিনই ক্ষোভ বাড়ছে পৌরবাসীর মধ্যে।একই সঙ্গে সফটওয়্যার নির্বাচন প্রক্রিয়া,সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এবং নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।সরেজমিনে সাভার পৌরসভায় দেখা যায়,ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্স শাখায় দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন সেবাপ্রার্থীরা।ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। পুরোনো ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে এসে অনেকেই জানতে পারছেন, নতুন সফটওয়্যারে তাদের আগের কোনো তথ্য নেই।আবার অনেকের লাইসেন্স নম্বর পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে,ইংরেজিতে আবেদন করলেও লাইসেন্স ইস্যু হচ্ছে বাংলায়।পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এক ব্যবসায়ী বলেন,১০ বছর ধরে নিয়মিত লাইসেন্স নবায়ন করছি।এখন এসে শুনছি আমার কোনো রেকর্ড নেই।সব তথ্য নতুন করে দিতে হবে। এটা ডিজিটাল সেবা নয়,হয়রানির নতুন ব্যবস্থা।অভিযোগ রয়েছে,যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই‘নিমেক্স সফটওয়্যার’নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে পৌরসভার সাবেক কর নির্ধারক নাজমুল আলমের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে।যদিও এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাজমুল আলম বলেন,পরে কথা বলব।পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছামসুদ্দিন বলেন,সফটওয়্যার পরিবর্তনের বিষয়ে মাসিক সভায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।এটি পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত।তিনি আরও জানান,সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মীর বেতন পৌরসভা থেকেই দেওয়া হয়।তবে তথ্য নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন,নতুন সফটওয়্যারটি আগের ডাটাবেজের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারছে না।ফলে জনগণের ভোগান্তি যেমন বেড়েছে,তেমনি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও চরম চাপের মধ্যে পড়েছেন।
ট্রেড লাইসেন্স পরিদর্শক মোঃ আবদুল মোত্তালিব বলেন,এই সফটওয়্যারের কারণে আমরাও বিব্রত।পুরো বিষয়টি পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে হয়েছে।ট্যাক্স আদায়কারী মিজানুর রহমানও বলেন,লনিমেক্স সফটওয়্যার নিয়ে আমরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আছি।এদিকে নতুন সফটওয়্যারের মাধ্যমে নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র,সম্পত্তির বিবরণ,কর তথ্য ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ডেটা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে চলে যাওয়ায় তথ্য নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে,এ ধরনের সংবেদনশীল সিস্টেম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা,আন্তর্জাতিক মানের তথ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সক্ষমতা থাকা জরুরি।সাভার উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন খান নঈম বলেন,ডিজিটালাইজে শনের উদ্দেশ্য হয়রানি কমানো।কিন্তু অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের কারণে যদি জনগণের দুর্ভোগ বাড়ে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হওয়া উচিত।অভিযোগের বিষয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইদুল ইসলাম বলেন,এ বিষয়ে পৌরসভার প্রশাসক ভালো বলতে পারবেন।অন্যদিকে সাভার পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন,নিমেক্স সফটওয়্যার অন্য অনেক পৌরসভায় কাজ করছে।নতুন সিস্টেমে কিছু ত্রুটি রয়েছে,সেগুলো দ্রুত সমাধান করা হবে যাতে জনগণ ভোগান্তিতে না পড়েন।তবে নাগরিকদের তথ্য সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে—এ প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।
বাংলাদেশ সময়ঃ ০২:১০ মিনিট
১১ই জুলাই ২০২৬ইং
এসওপিএমডি

সাভার প্রতিনিধি। 














